খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জানুয়ারি ২০১৫, ১:৫৩ পিএম
বাংলাদেশের মানচিত্রে যে জেলাগুলো নদী, সংস্কৃতি আর নিজস্ব ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে শরীয়তপুর জেলা অন্যতম। বিখ্যাত ফরায়েজী আন্দোলনের মহান নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর নামানুসারে এই জেলার নামকরণ করা হয়। একপাশে প্রমত্তা পদ্মা, অন্যপাশে মেঘনা আর কীর্তিনাশা নদীবেষ্টিত এই জনপদটি কেবল একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়; এটি শত বছরের লোকশিল্প, আধ্যাত্মিক সাধনা এবং ঐতিহাসিক জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত এক পুণ্যভূমি।
পদ্মা সেতুর কল্যাণে বর্তমান সময়ে এসে এই জেলার গুরুত্ব ও পরিচিতি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বহুগুণ বেড়ে গেছে। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ার পাশাপাশি শরীয়তপুর তার শিকড় ও প্রাচীন ঐতিহ্যকে খুব সচ্ছলভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে। চলুন, কোনো কৃত্রিম বা যান্ত্রিক উপায়ে নয়, একদম মন ছুঁয়ে যাওয়া এক ভ্রমণপিপাসু মন নিয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই শরীয়তপুর জেলা ঠিক কোন কোন জাদুকরী কারণে দেশ ও দেশের বাইরে এত বিখ্যাত।
শরীয়তপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে সবার আগে আসবে এখানকার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প (পটারি) এবং পিতলের তৈজসপত্রের কথা। এই জেলার মৃৎশিল্পীদের হাতের কাজ এতটাই নিখুঁত ও শৈল্পিক যে, তা আজ আর কেবল দেশীয় বাজারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই।
এখানকার কারিগরদের তৈরি বাহারি টেরাকোটা (পোড়ামাটির ফলকচিত্র) থেকে শুরু করে আধুনিক নকশার বিভিন্ন পটারি ও মাটির জিনিসপত্র ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে। মাটির তৈরি ফুলদানি, শোপিস এবং ঘর সাজানোর নানা উপাদান বিশ্বজুড়ে বাঙালির সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করছে। একইভাবে এখানকার পিতলের জিনিসপত্রেরও রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকদের মতে, স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগের যে অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটেছে, তা এই দুই লোকশিল্পকে আরও দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দিতে এবং শিল্পীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। আগে যেখানে ঢাকা পৌঁছাতেই ফেরিঘাটের জ্যামে মাটির ভঙ্গুর জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকত, এখন তা সরাসরি কন্টেইনারে করে বন্দরে চলে যাচ্ছে।
শরীয়তপুর জেলার নাম সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং ইতিহাসবিদদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হওয়ার অন্যতম প্রধান कारण হলো ‘ভোজেশ্বরের শিবলিঙ্গ’। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর নামক স্থানে এই অলৌকিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শনটি অবস্থিত।
ভৌগোলিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক খতিয়ান অনুযায়ী, এটি সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত। বিশাল আকৃতির এই শিবলিঙ্গটির প্রাচীন কারুকার্য এবং এর ঐতিহাসিক মহিমা দেখার জন্য প্রতি বছর ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকেও বহু তীর্থযাত্রী ও গবেষক এখানে ছুটে আসেন। লোকমতে, এই শিবলিঙ্গটি এই অঞ্চলের প্রাচীন সমৃদ্ধি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক জীবন্ত দলিল।
শরীয়তপুর জেলাকে বলা হয় সুফি সাধক ও আধ্যাত্মিক চেতনার অন্যতম কেন্দ্রস্থল। যুগের পর যুগ ধরে এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সাধকগণ এসে মানবপ্রেমের বাণী প্রচার করেছেন।
নড়িয়া উপজেলায় কীর্তিনাশা নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই দরবার শরীফটি পুরো অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। হযরত জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরী (র.)-এর স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র স্থানে প্রতি বছর লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে। তিনি ছিলেন একাধারে সুফি সাধক, কবি এবং দার্শনিক। এখানকার বাৎসরিক ওরস মোবারক শরীয়তপুরের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেখানে কাওয়ালি ও সুফি গানের এক চমত্কার আসর বসে।
সুফিবাদ ও চিশতিয়া তরিকার অনুসারীদের জন্য এই দুটি দরবার শরীফ অত্যন্ত পবিত্র স্থান। পন্ডিতসার চিশতীনগর দরবার শরীফটি আধ্যাত্মিক জ্ঞান চর্চা এবং মানবসেবার জন্য সুপরিচিত। মনের শান্তি ও মানত পূরণের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য স্মারক এই আশ্রমটি। লোকসংস্কৃতি এবং সাধক রাম সাধুর বাউল ও আধ্যাত্মিক বাণী আজও এই অঞ্চলের মানুষের মনে শান্তি জোগায়। এখানে প্রতি বছর সাধুসঙ্গের আয়োজন করা হয়, যা লোকসংস্কৃতির এক মিলনমেলা।

শরীয়তপুরের মাটি শুধু উর্বর পলি দিয়েই গড়া নয়, এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে প্রাচীন রাজবংশ ও প্রভাবশালী জমিদারদের শাসন আমলের গল্প। কালের করাল গ্রাসে অনেক প্রাসাদ আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও, তাদের ইট-পাথরের দেওয়ালগুলো অতীত আভিজাত্যের সাক্ষ্য দেয়।
শরীয়তপুর সদরের রুদ্রকরে অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি তার রাজকীয় ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত। তবে এই স্থানটির মূল আকর্ষণ হলো ‘রুদ্রকর মঠ’। আনুমানিক দেড়শ বছরেরও বেশি পুরনো এই মঠটির স্থাপত্যশৈলী সত্যি দেখার মতো। নিপুণ কারুকার্যখচিত এই সুউচ্চ মঠটির চূড়া দূর থেকেও নজর কাড়ে। এর গা ঘেঁষে থাকা প্রাচীন গাছপালা এবং শান্ত পরিবেশ প্রত্নতাত্ত্বিক ও আলোকচিত্রীদের জন্য এক দারুণ স্বর্গ।
নড়িয়া উপজেলার কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি এক সময় এই অঞ্চলের ক্ষমতার মূল কেন্দ্র ছিল। বিশাল দীঘি, নাচঘর আর হাতিশালার গল্প আজো প্রবীণদের মুখে মুখে ঘোরে। অন্যদিকে হাটুরিয়া জমিদার বাড়িটিও তৎকালীন আভিজাত্যের এক অনন্য নিদর্শন। এই বাড়িগুলোর ধ্বংসাবশেষের সামনে দাঁড়ালে এক লহমায় মনে পড়ে যায় শত বছর আগের সেই জমিদারি প্রথা ও রাজকীয় জাঁকজমকের কথা।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও জমিদার বাড়ি তার বিশাল দীঘি এবং সুন্দর প্রবেশদ্বারের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে লাকার্তা শিকদার বাড়িটিও প্রাচীন গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তৎকালীন প্রভাবশালী শিকদার পরিবারের এই বাসস্থানটির ভেতরের কারুকার্য তৎকালীন রাজকীয় রুচির পরিচয় বহন করে।
শরীয়তপুরের বুড়ির হাটের মুন্সী বাড়িটি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মুন্সী বংশের স্মৃতি ধারণ করে আছে। আর ধানুকার মনসা বাড়িটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এক ঐতিহাসিক স্থান। এখানকার প্রাচীন মনসা মন্দিরের অলংকরণ এবং প্রাচীন বিগ্রহ দেখার জন্য বহু মানুষ মানত নিয়ে এখানে আসেন।
মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি রাজা মানসিংহের নাম শোনেননি এমন বাঙালি কমই আছেন। শরীয়তপুরের মাটিতে রয়েছে সেই ঐতিহাসিক মানসিংহের স্মৃতিবিজড়িত প্রাচীন বাড়ির ধ্বংসাবশেষ। লোককাহিনী অনুযায়ী, এই অঞ্চলে এক বিশেষ অভিযানে এসে তিনি ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে মানসিংহের বাড়ি নামে পরিচিতি পায়।
নদীমাতৃক শরীয়তপুরের আসল রূপ লুকিয়ে আছে এর পদ্মাপাড়ের মৃদু হাওয়া আর বিশাল জলরাশির মাঝে। প্রকৃতির এই রূপকে উপভোগ করতে যেমন মানুষ ছোটেন, তেমনি আধুনিক বিনোদনের ছোঁয়াও রয়েছে এখানে।
সখিপুরের আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ এলাকাটি বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্ম ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক তুমুল জনপ্রিয় স্পট। প্রমত্তা পদ্মার পাড় ঘেঁষে তৈরি এই বাঁধের ওপর দাঁড়ালে মনে হয় যেন সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে আছেন। বিকেলের মিষ্টি রোদে পদ্মার ঢেউয়ের আছড়ে পড়া এবং দিগন্তে সূর্যাস্ত দেখার জন্য প্রতিদিন এখানে হাজারো মানুষের মেলা বসে। নদীর তাজা মাছ ভাজা খাওয়ার জন্য বাঁধের আশেপাশের ছোট ছোট দোকানগুলো দারুণ এক পরিবেশ তৈরি করে।
চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের সংযোগস্থল এই আলুর বাজার ফেরিঘাট মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। পদ্মা সেতু হওয়ার আগে এই ঘাটটিই ছিল এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন। এখনো এই ঘাটের বিশাল নদীর রূপ, তাজা ইলিশের বাজার এবং নদীর বুকে ভেসে চলা নৌকার দৃশ্য পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে।
ঐতিহাসিক মহিষারের দীঘিটি শরীয়তপুরের অন্যতম প্রাচীন এক বিশাল জলাশয়। এই দীঘিটি খনন করার পেছনে নানা অলৌকিক ও লোকজ কাহিনী প্রচলিত আছে। এর চারপাশের সবুজ গাছপালা আর শান্ত টলটলে পানি মনকে এক নিমেষে প্রশান্তি দেয়।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় আধুনিক বিনোদনের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে এই থিম পার্কটি। গ্রামীণ শান্ত পরিবেশের মাঝে চিড়িয়াখানা, সুইমিং পুল, নানা রাইড ও বিনোদনের এই চমৎকার আয়োজনটি পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য একদম আদর্শ।
অনন্য ইসলামী স্থাপত্যের নিদর্শন বুড়ির হাট মসজিদটি যেমন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক, তেমনি রাজনগর, কুরাশি ও মগর—এই ঐতিহাসিক গ্রাম ও অঞ্চলগুলো তাদের শান্ত আবহ, প্রাচীন পুষ্করিণী এবং খাঁটি গ্রামীণ সংস্কৃতির জন্য শরীয়তপুরের মানচিত্রে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।

শরীয়তপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত—এই প্রশ্নের উত্তর কেবল শিল্প আর ইতিহাসে খুঁজলে ভুল হবে। এই জেলার উর্বর পলিমাটি একে দিয়েছে এক অসামান্য কৃষি সমৃদ্ধি। বিশেষ করে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলাকে বলা হয় পুরো ঢাকা বিভাগের অন্যতম প্রধান ‘সবজির ভাণ্ডার’।
যক্ষ্মার চর, মুলফৎগঞ্জসহ পদ্মার অববাহিকায় গড়ে ওঠা চরাঞ্চলগুলোতে এত বিপুল পরিমাণ এবং বিষমুক্ত নানারকম সবজি উৎপাদিত হয়, যা প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকার প্রধান কাঁচাবাজারগুলোতে সরবরাহ করা হয়। জাজিরার লঙ্কা, টমেটো, বেগুন ও লাউয়ের চাহিদা পুরো দেশজুড়ে। কৃষি বিভাগের আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখানকার কৃষকরা এখন শুধু দেশের বাজারেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বাজারেও সবজি রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শরীয়তপুর জেলা নদীর কোল ঘেঁষে থাকায় এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে মিশে আছে রূপালী ইলিশ। নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জের পদ্মা নদীর অংশে যে ইলিশ ধরা পড়ে, তার স্বাদ অনন্য।
বাঙালিদের কাছে ‘পদ্মার ইলিশ’ এক আবেগের নাম, আর শরীয়তপুরের জেলেরা সেই আবেগের অন্যতম প্রধান জোগানদার। ইলিশের মৌসুমে যখন নদীর তাজা মাছ ঘাটে এসে পৌঁছায়, তখন পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার আড়তগুলো। সখিপুরের আনন্দবাজার কিংবা আলুর বাজারে ঘুরতে আসা পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণই থাকে দুপুরের খাবারে পদ্মার একদম টাটকা ইলিশ ভাজা খাওয়া।
স্বপ্নের পদ্মা সেতু শরীয়তপুর জেলার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। আগে যেখানে ঢাকা থেকে শরীয়তপুর যেতে মাওয়া বা কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটের দীর্ঘ ও অনিশ্চিত জ্যাম পার হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় হতো, অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মুমূর্ষু রোগী কিংবা পচনশীল সবজি পথেই নষ্ট হয়ে যেত—আজ সেই দৃশ্য অতীত।
পদ্মা সেতু চালুর পর এখন ঢাকা থেকে মাত্র ২ থেকে আড়াই ঘণ্টায় যেকোনো গাড়ি সরাসরি শরীয়তপুর শহরে পৌঁছে যাচ্ছে। এই যোগাযোগ বিপ্লবের ফলে পাল্টে গেছে শরীয়তপুরের পুরো অর্থনৈতিক মানচিত্র:
শিল্পের প্রসার: বিদেশের বাজারে পাঠানো টেরাকোটা ও মৃৎশিল্প এখন কোনো ভাঙনের ঝুঁকি ছাড়াই সরাসরি বন্দরে চলে যাচ্ছে।
রিয়েল এস্টেট ও ব্যবসা: শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া অঞ্চলে জমির দাম বেড়ে গেছে বহুগুণ, গড়ে উঠছে নতুন নতুন আধুনিক আবাসন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ।
ভ্রমণপিপাসুদের ঢল: ঢাকার একদম কাছাকাছি হওয়ায় এখন শুধু উইকএন্ড বা ছুটির দিনে হাজার হাজার মানুষ গাড়ি নিয়ে দিনে দিনেই শরীয়তপুরের পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করে আবার ফিরে যেতে পারছেন।
ইউরোপের বাজারে ঝড় তোলা পোড়ামাটির নিপুণ মৃৎশিল্প, উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক শিবলিঙ্গ, সুরেশ্বর দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক সুফি সুর, আর আনন্দবাজার বেড়িবাঁধে আছড়ে পড়া পদ্মার ঢেউ—এই সবকিছুর এক চমত্কার, রাজকীয় ও মায়াবী কোলাজ হলো আমাদের শরীয়তপুর জেলা।
এটি এমন এক পুণ্যभूमि যা একদিকে তার হাজার বছরের প্রাচীন রাজকীয় ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে পরম মমতায় বুকে আগলে রেখেছে, অন্যদিকে পদ্মা সেতুর ওপর ভর করে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে ডানা মেলছে। শরীয়তপুরের এই অদম্য পথচলা এবং সমৃদ্ধ ঐতিহ্যই একে বাংলাদেশের বুকে এক অনন্য, বিখ্যাত ও অপরাজেয় জেলা হিসেবে চিরকাল অমর করে রাখবে।
মন্তব্য