নতুন কর্মজীবনে লঞ্চের হকাররা,সিরাজ ব্যাপারী (৪০), বনাজী ঔষধের ব্যবসা করতেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের একসময়ের ব্যস্ততম মাঝিকান্দি লঞ্চঘাটে। প্রতিদিন দক্ষিণ অঞ্চলের একাংশ মানুষ এই রুট দিয়ে পাড় হতেন। সে সময় বনাজী ঔষধ বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হতো। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোই চলছিল। কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই এখানে লঞ্চে কোনো যাত্রী
আসে না। তাই বনাজী ঔষধ তেমন বিক্রি হয় না।দীর্ঘ ২৫ বছর এই ব্যবসা করে তিনি ১০ লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। শেষমেশ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সেই অর্থও খরচ হয়ে যায়। সুস্থ হয়ে সিরাজ ব্যাপারী তার স্বপ্ন ও সংগ্রামের পেছনে ছুটে চলেছেন। একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে মাঝিরঘাটে দিয়েছেন চায়ের দোকান। মাসে দোকান ভাড়া ৮০০ টাকা। দোকান থেকে দিনে ৭০০-১০০০ টাকা আয় করেন। এই উপার্জনে তার ছয় সদস্যের পরিবার মোটমুটিভাবে চলে যাচ্ছে। এক ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।

নতুন কর্মজীবনে লঞ্চের হকাররা
প্রায় দুই যুগের ব্যস্ততম ঘাট এখন নিস্তব্ধ। পদ্মার তীরে অলস হয়ে পড়ে আছে লঞ্চঘাটের পন্টুন। ২০২২ সালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে যানজট নিরসনের জন্য এই রুটে একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। ওই সময় শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি লাইনে ৯টি ফেরি চলাচল করতো। আর ২০টি লঞ্চ চলতো এ রুটে। গত বছর ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই এ ঘাটে লঞ্চ-স্পিড বোট ফেরিসহ ছোটবড় সব
নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারপরই মাঝিরকান্দি লঞ্চঘাটটি সুনসান এবং যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে। এ ঘাটের আশেপাশের এলাকা দরিদ্র পরিবারে প্রায় ১০০ হকার ছিল। সেতু উদ্বোধনের পর তাদের মধ্য কিছু সংগ্রামী ব্যক্তির বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিবর্তন ও বদলেছে জীবনযাত্রার মান। এখন কেউ কেউ ভ্যানগাড়ি দিয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন কেউবা অটোভ্যানে যাত্রী পারাপার ও কেউ চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।মাঝিরঘাটে ঘুরে দেখা
যায়, ইসুব সরকার (৪৭) ভ্যান গাড়িতে করে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন। দোকানে ভালোই বেচাকেনা। তিনি বলেন, ২৫ বছর ধরে লঞ্চে ঝালমুড়ি বিক্রি করেছি। তবে সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই লঞ্চ বন্ধ হয়ে যায়। ঘাটে কোনো যাত্রী বা লোকজনের ভিড় নেই। তাই লঞ্চে বেচাকেনা করতে পারি না। লঞ্চ থাকলে বেশি বেচাকেনা হতো। এখন ভ্যানে স্কুলে স্কুলে এবং বিভিন্ন বাজারে ঝালমুড়ি বিক্রি করছি। তবে লঞ্চের তুলনায় এখন ঝালমুড়ি বিক্রি করে
মোটামুটি ভালোই আছি। এক ছেলেকে কলেজে। দুই মেয়েকে মাদরাসায় পড়ালেখা করাচ্ছি। আমাদের এখানে এক থেকে দেড়শ হকার ব্যবসায়ী ছিল। কেউ ভ্যান গাড়ি, কেউ কাঁচামালের দোকান, কেউ চায়ের দোকান কেউবা ঢাকায় গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি করছে।

