সপ্তাহে ১০ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয় মোল্লার হাটে

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের মোল্লার হাটে বিক্রি হয় কোটি কোটি টাকার শুকনা মরিচ। প্রতি হাটবারে ৫ কোটি টাকা করে মোট ১০ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয় এই হাটে। বাজারটি শুকনো মরিচের হাট হিসেবে পরিচিত। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে। বিকেল পর্যন্ত চলে মরিচ বেচাকেনা। প্রতি হাটবারে ৪-৫ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয়।

 

সপ্তাহে ১০ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয় মোল্লার হাটে

 

সপ্তাহে ১০ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয় মোল্লার হাটে

এই হাটের শুকনা মরিচ চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, ভরা মৌসুমে মোল্লার হাটে ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয়। এই বাজারের মরিচগুলো অন্য বাজারের মরিচের তুলনায় ভালো। ভালো মরিচ পেতে হলে মোল্লারহাটে আসতে হবে।

শনিবার (২০ মে) সখিপুরের মোল্লার হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, শত শত কৃষক শুকনো মরিচ নিয়ে আসছেন। সকাল থেকে ব্যস্ত সময় পার করছেন আড়তদার ও তাদের কর্মচারীরা। এ হাটে ছোট-বড় ৩৫-৪০টি শুকনা মরিচের আড়ৎ রয়েছে। সেখানে ২০০-৩০০ শ্রমিক কাজ করে।

 

সপ্তাহে ১০ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয় মোল্লার হাটে

 

বাজারের পাইকাররা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও কোম্পানির থেকে মরিচ কিনতে আসায় কৃষকদের পাশাপাশি তারাও লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া গতকাল শুক্রবার গোসাইরহাট বাজারেও কৃষকদের মরিচ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

আক্তার হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, আমার উৎপাদন করা মরিচ ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। বাড়ির কাছে বাজার। দাম ভালো পাচ্ছি শুরু থেকে। পোলাপান নিয়ে ভালোই আছি।

স্থানীয় আব্দুর রহমান শেখ বলেন, আমি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে মরিচ কিনে এনে মোল্লার হাট বাজারে বিক্রি করি। এতে আমার যে ব্যবসা হয়, তা দিয়ে আমার সংসার ভালোভাবে চলে যায়।

 

সপ্তাহে ১০ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয় মোল্লার হাটে

 

দিল মোহাম্মদ নামে এক শ্রমিক বলেন, মরিচ কিনে রাখার পর বাজারের ব্যবসায়ীদের কথা অনুযায়ী মরিচগুলো আমরা প্রস্তুত করে ট্রাকে তুলে দিলে কেজি প্রতি আমাদের দুই টাকা দেন। এতে আমাদের প্রতিদিন ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। বাজারের আয়ে আমাদের সংসার ভালোভাবে চলছে।

মেসার্স শান্তা এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহাবুদ্দিন মোল্লা বলেন, সপ্তাহে দুই দিন হাটবার। প্রতি হাটে গড়ে কমপক্ষে তিন হাজার মণ মরিচ বিক্রি হয়। তিন হাজার মণ মরিচের দাম প্রায় সাড়ে চার কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকা। এই বাজারের উছিলায় আমাদের এলাকার ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শ্রমিক কাজ করে তাদের সংসার পরিচালনা করছে। বাজারে ঘর সংখ্যা কম থাকলেও ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। মরিচের কারণে বাজারের ডাক ১০ লাখ হয়েছে এখন। এতে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে। চারদিক থেকে এই বাজারে মরিচ ও পাইকাররা আসার কারণে বিক্রিও বেশি হচ্ছে।

মোল্লারহাট ও গোসাইরহাটের মরিচের বাজার সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. রবীআহ নূর আহমেদ বলেন, চলতি বছর মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর। এখন পর্যন্ত ফলন হয়েছে ৯ হাজার ৮৭০ মেট্রিক টন।

শরীয়তপুরের ভেদগঞ্জের মোল্লারহাটে ভরা মৌসুমে সপ্তাহে দুই হাটবারে ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয়। বর্তমানে প্রতি হাটবারে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হচ্ছে। এই ধারা অভ্যাহত থাকলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মরিচ বিক্রি করে বেশ লাভবান হবে বলে আমরা মনে করি।

Leave a Comment