শেষ হয়নি ৪ বছরেও পদ্মা সেতুর সঙ্গে শরীয়তপুরের টু-লেন সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ। ফলে পদ্মা সেতুর পুরোপুরি সুফল পাচ্ছে না শরীয়তপুরবাসী। চার বছরে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫৭ শতাংশ। সড়ক খুঁড়ে রেখে লাপাত্তা হয়েছে ঠিাকাদার। ভোগান্তিতে পড়েছে রাস্তায় চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরা। মাত্র ২৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে প্রায় ২/৩ ঘণ্টা। এতে বেড়েছে জ্বালানি খরচ, নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ।
শেষ হয়নি ৪ বছরেও খুঁড়ে রাখায় ভোগান্তি
পদ্মা সেতুর সঙ্গে শরীয়তপুরের ফোর-লেন সংযোগ সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে বিগত সরকার। ২০২০ সালের শুরুর দিকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। পরে ভূমি অধিগ্রহণ ও জমি জটিলতার কারণে প্রাথমিক অবস্থায় টু-লেন সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পদ্মা সেতুর ল্যান্ডিং পয়েন্ট নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত মোট ২৭ কিলোমিটার সড়ক ভাগ করা হয় তিনটি প্যাকেজে।

জমি অধিগ্রহণ ও সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ ১ হাজার ৬শ ৮২ লাখ টাকা। সড়কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নেই বললেই চলে। সড়ক খুঁড়ে রাখায় লাখ লাখ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নামমাত্র গুটি কয়েক শ্রমিক আর যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছে ২৭ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নের কাজ। সড়কের অবস্থা নাজুক। সড়কজুড়েই ভাঙাচুরা আর খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে ভোগান্তি বাড়ে কয়েকগুণ।
শরীয়তপুর থেকে জাজিরা কলেজ মোড় পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স সালেহ আহাম্মেদ, অপরটি জাজিরা কলেজ মোড় থেকে নাওডোবা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স মীর হাবিবুল আলম অ্যান্ড মাহবুব ট্রেডার্স লিমিটেড।
গত ৪ বছর যাবৎ জমি জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এত সব অভিযোগের পরও কাজ ঠিকঠাক মতোই চলছে বলে জানালেন শরীয়তপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন। তবে দু-একটি স্থানে কাজ বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তিনি বলেন, মোট কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ ভাগের বেশি শেষ হয়েছে।